ভারতীয় কৃষিপণ্যের ওপর আরোপিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের একটি অংশ সম্প্রতি প্রত্যাহার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব পণ্যের বার্ষিক রফতানিমূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার। তবে সামগ্রিক বাণিজ্যের তুলনায় ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানীকৃত কৃষিপণ্যের হিস্যা খুবই ছোট। এছাড়া একই বাজারে একাধিক দেশ প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে কৃষিপণ্য সরবরাহ করে আসছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
গত সপ্তাহে ডোনান্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশে কিছু ভারতীয় পণ্য শুল্ক তালিকা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৌসুমি ফল, ফলের রস, কোকো, কলা, কমলা, টমেটো, গরুর মাংস ও সার।
চিংড়ি বাদে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের কৃষিপণ্য রফতানির মোট বার্ষিক আকার প্রায় ২৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ কৃষি রফতানির ৪০ শতাংশ শুল্কছাড়ের সুবিধা পাচ্ছে।
শুল্ক ছাড়কে ভারতের কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তটি সব বাণিজ্যিক অংশীদারের জন্য প্রযোজ্য হলেও ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ভারতের জন্য যেসব পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ছিল, তা এখন শূন্যে নেমে এল।’
এ পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাজার সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন নয়াদিল্লিভিত্তিক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব। তার মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত মসলা ও বিশেষ কিছু পণ্যে ভারতকে অল্প হলেও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিতে পারে। তবে বাড়তি লাভ পাবে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও আসিয়ানভুক্ত বড় কৃষি রফতানিকারক দেশগুলো।
অজয় শ্রীবাস্তব আরো জানান, মার্কিন বাজারে টমেটো, সাইট্রাস জাতীয় ফল, তরমুজ, কলা, বেশির ভাগ তাজা ফল ও ফলের রসের মতো রেয়াতপ্রাপ্ত অনেক বড় পণ্যশ্রেণীতে ভারতের উপস্থিতিই নেই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে ভারতীয় পণ্য রফতানি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ, যা মে-পরবর্তী প্রথম মাসিক প্রবৃদ্ধি। এর আগে সেপ্টেম্বরে রফতানি কমেছিল ২০ শতাংশ। অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ‘পুনরুদ্ধার সত্ত্বেও মে-অক্টোবরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রমুখী ভারতীয় রফতানি প্রায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।’
গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর পর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন। ওই সময় দুই দেশের লক্ষ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২ হাজার কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করা।
কিন্তু আগস্টে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ছিল রুশ জ্বালানি তেল ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা না মানায় ২৫ শতাংশ জরিমানা শুল্ক। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতীয় পোশাক রফতানি। গত রোববার ট্রাম্প পুনরায় সতর্ক করে জানান, রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করলে যেকোনো দেশই কঠোর ব্যবস্থার মুখোমুখি হবে।
মার্কিন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির জন্য সম্প্রতি এক বছরের একটি চুক্তি করেছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল কোম্পানি। দেশটির পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানান, এ চুক্তির আওতায় প্রায় ২২ লাখ টন জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি করবে ভারত, যা দেশটির বার্ষিক আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত অনেক দিন ধরেই বিবেচনাধীন ছিল। এটি কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্য প্যাকেজের অংশ নয়।’
বিটিএ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক নিয়ে একটি প্যাকেজের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে কবে সম্পন্ন হবে, তা তিনি নিশ্চিত করেননি। তার ভাষায়, ‘বিটিএ-তে একাধিক প্যাকেজ ও একাধিক ধাপ থাকবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপটি পারস্পরিক শুল্ক-সংক্রান্ত ইস্যু মোকাবেলা করবে।’